উৎপাদন বাড়ায় নিম্নমুখী প্রবণতায় বৈশ্বিক ইস্পাতের বাজার

অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা, দুর্বল চাহিদা ও ক্রমবর্ধমান সুরক্ষানীতি এ তিনমুখী চাপে বৈশ্বিক ইস্পাত শিল্পের বাজার ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।

অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা, দুর্বল চাহিদা ও ক্রমবর্ধমান সুরক্ষানীতি এ তিনমুখী চাপে বৈশ্বিক ইস্পাত শিল্পের বাজার ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। মৌলিক চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি এখন ধাতব পণ্যটির বাজারকে প্রভাবিত করছে বাণিজ্য ও শিল্পনীতি এবং ভূরাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা। জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ, শিল্পভিত্তিক ভর্তুকি, শুল্কনীতি ও কৌশলগত বিনিয়োগ—এ সবকিছু মিলেই ইস্পাত, আকরিক লোহা ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজের বৈশ্বিক বাজার নতুন রূপ নিচ্ছে। এস অ্যান্ড গ্লোবালের প্লাটস জরিপের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে হেলেনিক শিপিং নিউজ।

অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) সর্বশেষ স্টিল রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বৈশ্বিক ইস্পাত উৎপাদন সক্ষমতা ২০০৯ সালের পর সবচেয়ে দ্রুত হারে বেড়েছে। এতে দামে আরো নিম্নমুখী চাপ তৈরি হয়েছে। অতিরিক্ত সরবরাহ ও বাণিজ্যপ্রবাহের পরিবর্তনের কারণে উৎপাদনকারীরা নতুন বাজার খুঁজতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে অ্যান্টিডাম্পিং (অতিরিক্ত শুল্ক) ও সেফগার্ডের (শুল্ক বাড়ানো, কোটা নির্ধারণ বা আমদানি সীমিত) মতো ঘটনা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, টানা সপ্তম বছরের মতো বৈশ্বিক ইস্পাত উৎপাদন সক্ষমতা বাড়তে বাড়তে ২০২৫ সালের শেষে ২৫৫ কোটি টনে দাঁড়িয়েছে। এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে পরিকল্পিত নতুন প্রকল্পগুলো ২০২৮ সালের মধ্যে আরো ১০ কোটি ৯০ লাখ টন সক্ষমতা যোগ করবে। এতে বিশ্বব্যাপী ইস্পাতের আরো বাড়তি সরবরাহ তৈরি হবে। ২০২৫ সালে ধাতব পণ্যটির বৈশ্বিক উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৮ কোটি টনে।

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জি সিইআরএর স্টিল কমোডিটি ব্রিফিং সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ভারত ২০২৬ সালে অতিরিক্ত ১ কোটি ১৪ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন করতে পারে। এতে দেশটির মোট উৎপাদন দাঁড়াবে আনুমানিক ১৫ কোটি ৪০ লাখ টনে।

মুম্বাইভিত্তিক এক ইস্পাত ব্যবসায়ী বলেন, ‘অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে এরই মধ্যে দামে নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত আছে। নতুন চাহিদা তৈরি না হলে বাজারে দীর্ঘমেয়াদে নিম্নমুখী প্রবণতাই থেকে যাবে। ’

ধাতব পণ্যের শীর্ষ ব্যবহারকারী দেশ চীন। দেশটিতে অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমার কারণে ইস্পাতের উদ্বৃত্ত বাড়ছে। মজুদ কমানোর উদ্দেশ্যে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় রফতানি বাড়িয়েছে দেশটি। ফলে বিভিন্ন দেশ আমদানিতে সুরক্ষানীতি আরো জোরদার করেছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আয়রন অ্যান্ড স্টিল ইনস্টিটিউটের মহাসচিব ইয়েও উই-জিন বলেন, ‘অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা তীব্র প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করবে। এমনকি চীনের প্রতিবেশী দেশগুলোই প্রথম অতিরিক্ত রফতানি চাপের মুখে পড়বে।

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতির কারণে বাণিজ্যপ্রবাহ প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা বেশি।’

যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শুল্ক ইউরোপীয় ইস্পাত শিল্পের সংকট আরো বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বদলে বর্তমানে ইউরোপের দেশগুলোয় রফতানি বাড়াচ্ছে উৎপাদনকারী দেশগুলো।

ইউরোফারের সর্বশেষ ইকোনমিক অ্যান্ড স্টিল মার্কেট আউটলুক অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম আট মাসে ইউরোপে ইস্পাত আমদানির অংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ শতাংশে।

আরও